Header Ads

খুলনার জনসমুদ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক ভাষন


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা প্রতীকে ভোট দিন। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাবে। কোন রাজাকার আলবদর, জঙ্গীবাদের স্থান এই বাংলার মাটিতে হবে না। খালেদা জিয়া তার অপরাধের কারণেই কারাগারে গেছেন। এ জন্য আওয়ামী লীগের কিছু করার নেই। আগামী নির্বাচনে নৌকার জয় হবে। দেশের উন্নয়ন ধারা অব্যহত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার বিকালে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানের জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। তিনি বলেন,  বিএনপি খমতার লোভে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। খালেদা জিয়া অফিসে বসে বিরিয়ানি খান, আর মানুষকে পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দেন। ৫শ’ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। আর সাড়ে ৩ হাজার মানুষকে পুড়িয়ে আহত করেছেন। 
আওয়ামী লীগ জনসেবায় বিশ্বাসী। জনগণের সেবা করে। জনগণের জন্য কাজ করে।
খুলনাজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসমাবেশে বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্প্দাক মাহবুবুল আলম, দীপু মনি, সালাম মুর্শেদী, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, খুলনা মহানগর আ্ওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ প্রমুখ।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ১টি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। ভিটে মাটি আছে এমন পরিবারকে ঘর করে দিয়েছি। ন্যুনতম টিনের ঘর করে হলেও মাথা গোজার ঠাই করে দেব। যুবকদের বিদেশে যাওয়ার জন্য আর জমি ভিটে বিক্রি করা লাগবে না। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে আমরা ঋন দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
 অর্থ নেই এমন যুবকদের জন্য বিনা জামানতে ২ লাখ টাকা লোন দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সার বীজ ক্রয় এখন কৃষকদের ক্রয় খমতার মধ্যে। ২ কোটি কৃষককে কৃষি উপকরণ ও ১ কোটি কৃষককে ১০ টাকার ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। চিংড়ি চাষের উন্নয়নে বাগেরহাটে গবেষনা ইনস্টিটিউট করেছি। বিদ্যুতের হাহাকার দুরীকরণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সব সময় দেশের উন্নয়ন করে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে আমরা যখন খমতায় এসেছিলাম, তখন দেশে মাত্র ১৬ শত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো, আর বর্তমানে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি ঘরে আলো জ্বালাতে চাই। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের কোন ঘরে অন্ধকার থাকবে না। 
বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি, সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দিপু মনি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান এমপি, বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, আবু সাইদ আল মামুন এমপি, খালিদ মামুন চৌধূরী এমপি, বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সুজিৎ রায় নন্দি, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম মিলন, পঙ্কজ দেবনাথ এমপি, অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম কাওছার, মহা নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি, সম্পাদক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান এমপি, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ, অ্যাডভোকেট শেখ মো. নূরুল হক, সাবেক ফুটবলার আব্দুস সালাম মুর্শেদী, কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম কামাল হোসেন, মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হোসনেআরা রুনু, পারভীন জামান কল্পনা, মাহমুদা বেগম, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদিকা নাজমা আক্তার, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিৎ অধিকারী, সদর থানা সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম, সোনাডাঙ্গা থানা সভাপতি বুলু বিশ্বাস, শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময়, মহানগর যুবলীগের আহবায়ক আনিছুর রহমান পপলু, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আশরাফুজ্জামান বাবুল, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি বিএম জাফর, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক  লুৎফুন্নেছা লুৎফা, হোসনে আরা চম্পা, মালিক সরোয়ার উদ্দিন, রণজিৎ কুমার ঘোষ, অ্যাডভোকেট রাবেয়া অলি করবী, সেলিমা আক্তার প্রিয়া, মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি সভাপতি শেখ শাহজালাল হোসেন সুজন, সাধারণ সম্পাদক এসএম আসাদুজ্জামান রাসেল, জেলা সভাপতি পারভেজ হাওলাদার।
জনসভায় বক্তৃতা দেওয়ার আগে তিনি খুলনার উন্নয়নে ১০০টি প্রকল্পের ২ হাজার ৪১ কোটি টাকার ১০০ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্র¯Íর স্থাপন করেন। এর মধ্যে ৬৭৫. ৩৭ কোটি টাকার ৪৮টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ১ হাজার ৩৩৬ কোটি ৪ লাখ টাকার ৫২টি নতুন প্রকল্পের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্র¯Íর করেন। 
এর আগে শনিবার দুপুরে আইইবি খুলনা সেন্টারে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (ইআইবি)-র ৫৮তম কনভেনশন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রকৌশলীদের সরকারের উন্নয়র পরিকল্পনা বা¯Íবায়নে পেশাগত দÿতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহবান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বা¯Íবায়নের দায়িত্ব আপনাদের ওপরই বর্তায়। কাজেই উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আপনারা পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন।’
দেশের সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্প খরচে টেকসই যন্ত্রপাতি নির্মাণ, স্থাপনা নির্মাণ ও মেরামত বিষয়ে প্রচুর গবেষণা করতে হবে। 
তিনি বলেন, বিকল্প জ্বালানি ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন, স্বল্প-ব্যয়ে বাড়িঘর নির্মাণের কৌশল ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে আপনাদের এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি উন্নয়ন কর্মকান্ডকে টেকসই করার জন্য পরিবেশ বান্ধন অবকাঠামো, ভূমিকম্প ও দুর্যোগ প্রবণ প্রযুক্তির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই দেশের সকল নির্মাণ কাজে যেন বাইরের থেকে প্রযুক্তি ধার করতে না হয়। আমাদের প্রকৌশলীরাই সব কিছুতে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে। ইতোমধ্যেই আমাদের অনেক তরুণ ও মেধাবী প্রকৌশলী পৃথিবীর কোন কোন দেশের ‘আইটি ভিলেজে’ অনেক দক্ষতা ও সুনাম অর্জন করেছে। 
এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। 

স্বাধীনতার পর জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধবিধ্ব Í বাংলাদেশ পুনর্গঠনে প্রকৌশলীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন উ্ল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, অতি অল্প সময়েই মধ্যেই তিনি বিধ্ব¯Í রা¯Íা, সেতু, কল-কারখানাসহ সকল অবকাঠামো সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ করেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরে জাতির পিতা দেশকে একটা শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে সÿম হয়েছিলেন। কিন্তু ‘৭৫-এর ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর থেমে যায় উন্নয়নের চাকা। দেশ আবার পিছনের দিকে যাত্রা করে।
দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে তাঁর সরকার দেশ শাসনের দায়িত্ব নিয়ে দেশের উন্নয়নে মনোনিবেশ করে উলেøখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সব সময়ই প্রকৌশলীদের পাশে রয়েছে। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ মেয়াদে আমরা আইইবি ভবন নির্মাণের জন্য রমনায় ১০ বিঘা জমি প্রদান করি। আইইবি ভবন নির্মাণে প্রথম ৫ কোটি টাকা এবং এর উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের জন্য পরে আরও ২৩ কোটি টাকা অনুদান দেই। ১৯৯৭ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজের জন্য ৭২ বিঘা জমি প্রতিকী মূল্যে প্রদানের ব্যবস্থা করি। স্টাফ কলেজের ১ম এবং ২য় পর্যায়ের কাজ বা¯Íবায়নের জন্যও ৪৬ কোটি টাকা দেওয়া হয়। 
তিনি বলেন, খুলনা কেন্দ্রের জন্য কেডিএ-এর জায়গা বরাদ্দ, পূর্বাচলে আইইবি’র জন্য ২ বিঘা জমি, রাঙ্গাদিয়া, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, দিনাজপুর কেন্দ্র এবং ফেনী ও কক্সবাজার উপকেন্দ্রের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৭টি প্রকৌশল সংস্থার প্রধান’কে  গ্রেড-১ প্রদান করা হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির খেত্রে আমরা এখন আর পিছিয়ে নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশকে ডিজিটালাইজেশন এবং প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য কাজ করে চলেছে। 
তিনি বলেন, আমরা ই-গভর্নেন্স চালু করতে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ১৯৯৬-এ দায়িত্ব গ্রহণের পর এ সংযোগ গ্রহণের উদ্যোগ নিই। আন্তঃমহাদেশীয় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগে আমরা অংশীদার হয়েছি। এই সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ কোন কারণে কাটা পড়লে টেলি ও ইন্টারনেট সেবা বিঘিœত হয়। এজন্য দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ আমরা গ্রহণ করেছি। এর ফলে এ সঙ্কট দুর হওয়ার পাশাপাশি উচ্চগতির ইন্টারনেট ও ভয়েস সেবার সার্বÿণিক সুবিধা পাবে দেশের মানুষ।
তিনি বলেন, 
টেলিফোন ও মোবাইল ফোনকে গ্রামের মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিয়েছি। ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মোবাইল ফোন বর্তমানে ২-৩ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ফোর-জি ইন্টারনেট সেবা চালু করেছি। 
অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বহুল প্রতীক্ষিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে উলক্ষ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘টেলিযোগাযোগ এর খেত্রে এটি যুগান্তকারী বিপ্লব সাধন করবে বলে আমার বিশ্বাস।’ 
শেয়ার করতে ভুলবেননা, আমাদের পরবর্তী আপডেট পেতে SAp TV Bangla এর সংগেই থাকুন, ধন্যবাদ।

No comments

Theme images by RedHelga. Powered by Blogger.